নারীদের ভয়ংকর দশটি গুনাহের মধ্যে দশম এই:- স্বামীর নিকট তালাক চাওয়া।

 নারীদের ভয়ংকর দশটি গুনাহের মধ্যে দশম এই:-

স্বামীর নিকট তালাক চাওয়া।


বর্তমানে সামান্য ও তুচ্ছ কারণে অনেক নারী স্বামীর কাছে তালাক চেয়ে বসে। হয়তাে স্বামীর কাছে কোনাে কিছু চায় কিন্তু কোনাে কারণে স্বামী যদি তা দিতে সক্ষম না হয় তখনই সে তালাক চায়।শুধু তা-ই নয়, কখনাে কখনাে স্বামীকে উত্তেজনামূলক কথাও বলা হয়। যেমন বলে, যদি তুমি পুরুষ হয়ে থাকো তাহলে আমাকে তালাক দাও ইত্যাদি। এভাবে স্ত্রীর জন্য তালাক চাওয়া মারাত্মক গােনাহ। এতে বিভিন্ন সমস্যা ও ফেতনার সৃষ্টি হয়। যেমন সম্পর্কের বন্ধন ছিন্ন হওয়া, সন্তানরা ঘরছাড়া হওয়া ইত্যাদি। দেখা যায় উক্ত নারী পরবর্তীতে লজ্জিত হয়ে থাকে যদিও তখন ওই লজ্জা কোনাে কাজে আসে না।

হযরত ছাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত (রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে মহিলা (শরয়ী) কোনাে কারণ ব্যতীত তার স্বামীর নিকট তালাক চায় তার ওপর জান্নাতের ঘ্রাণ হারাম। (আবু দাউদ : হাদীস নং-২২২৬)

হযরত উকবা ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই খােলা ও তালাক গ্রহণকারী নারীরা হলাে মুনাফেক। (তবারানী : ১৭/৩৩৯) আর মুনাফিকদের ঠিকানা হলাে জাহান্নাম।(সূরা নিসা : ১৪৫)

অবশ্য যদি কোনাে শরয়ী কারণ থাকে, যেমন স্বামী নামায পড়ে না, নেশা করে, স্ত্রীকে হারাম কাজ করতে বাধ্য করে অথবা মহিলার শরয়ী হক আদায় না করে ইত্যাদি এবং ওই ব্যাপারে স্বামীকে নসিহত করলেও তা কোনাে উপকারে আসে না। সে ক্ষেত্রে মহিলা নিজের নফস এবং দ্বীনকে হেফাজত করার স্বার্থে উক্ত জালেম স্বামীর নিকট থেকে তালাক চাইতে পারবে।এখানে আরাে একটি বিষয় উল্লেখযােগ্য, যা আমাদের সমাজে রীতিমতাে মহামারির আকার ধারণ করেছে। আর তাহলাে, এক শ্রেণীর নারী এ ক্ষেত্রে আরাে এক ধাপ এগিয়ে গেছে। তারা স্বামীর কাছে তালাক চায় না বরং সামান্য

বিষয়ে স্বামীকেই ডিভাের্স দিয়ে দেয় এবং ডিভাের্স দেওয়ার দুই-এক সপ্তাহের মধ্যে আরেক স্বামী জোগাড় করে নেয়। যা স্পষ্টত হারাম, কবীরা গােনাহ ও ব্যভিচারের শামিল। খুব ভালােভাবে স্মরণ রাখতে হবে, স্ত্রী চাইলেই স্বামীকে ডিভাের্স দিয়ে অন্য বিবাহ করতে পারে না।হ্যা, স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক গ্রহণের ক্ষমতা কোনাে শর্তের সাথে (বা শর্তহীন) দেয় এবং সেই শর্ত পাওয়া যায় তখন স্ত্রী নিজ নফসের ওপর তালাক গ্রহণ করতে পারবে এবং তালাকের ইদ্দত গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব অন্যথায় তিন হায়েয অতিবাহিত হওয়ার পর।

Post a Comment

Previous Post Next Post